বাবা, তুমি টাকা না—আমাকে চাই | এক ছোট শিশুর হৃদয়বিদারক গল্প”
ছোট্ট রিফাতের বয়স মাত্র পাঁচ। কিন্তু তার চোখে যেন বয়সের চেয়ে অনেক বড় এক
পৃথিবীর গল্প জমে আছে। সে থাকে তার নানা বাড়িতে—একটি ছোট গ্রামে, যেখানে সন্ধ্যা
নামলেই চারপাশে নীরবতা নেমে আসে। তার বাবা শহরে একজন ছোট ব্যবসায়ী। প্রতিদিন লড়াই
করেন জীবনের সাথে—লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি, তবুও থামেন না। আর তার মা একজন চাকরিজীবী
নারী—ভোর থেকে রাত পর্যন্ত অফিস আর সংসারের ভার সামলাতে সামলাতে ক্লান্ত হয়ে
পড়েন। অভাব যেন তাদের জীবনের নিত্যসঙ্গী। রিফাত বুঝে না সবকিছু, কিন্তু অনুভব
করে—বাবা তার কাছে নেই। প্রতিদিন রাতে সে তার নানার পুরনো মোবাইলটা হাতে নিয়ে বসে
থাকে। হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠলে তার চোখে ঝিলিক আসে— “বাবা ফোন দিছে!” ওপাশ থেকে বাবার
ক্লান্ত কণ্ঠ— “বাবা, কেমন আছো?” রিফাত একটু চুপ করে থাকে… তারপর বলে— “বাবা, তুমি
কবে আসবা? আমি তোমারে খুব মিস করি…” ওপাশে কিছুক্ষণ নীরবতা। তারপর বাবা হালকা হাসার
চেষ্টা করে বলেন— “খুব তাড়াতাড়ি আসবো বাবা… তুমি ভালো থেকো।” কিন্তু সেই
“তাড়াতাড়ি” আর আসে না। একদিন স্কুল থেকে ফিরে রিফাত তার মাকে জিজ্ঞেস করল— “আমার
বন্ধুরা সবাই তাদের বাবার সাথে থাকে… আমার বাবা আমার সাথে থাকে না কেন?” মা কিছু
বলতে পারলেন না। চোখের কোণে জমে থাকা পানি তিনি লুকিয়ে ফেললেন। সেই রাতে বাবা
ভিডিও কলে এলেন। রিফাত অনেকক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে থাকল। তারপর হঠাৎ বলল— “বাবা, তুমি
টাকা কামাই কইরা কী করবা, যদি আমার পাশে না থাকো?” এই ছোট্ট প্রশ্নটা যেন বজ্রপাতের
মতো আঘাত করল বাবার হৃদয়ে। তিনি ফোনের ওপাশে চুপ করে থাকলেন… তার চোখে পানি জমে
উঠল। জীবনের হিসাব-নিকাশ, লাভ-ক্ষতির অঙ্ক—সবকিছু যেন হঠাৎ অর্থহীন হয়ে গেল। পরের
সপ্তাহে একদিন হঠাৎ রিফাতের দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। দরজা খুলতেই সে অবাক— তার
বাবা দাঁড়িয়ে! রিফাত দৌড়ে গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরল। “বাবা! তুমি সত্যি আইছো?”
বাবা তাকে বুকে চেপে ধরে শুধু বললেন— “এইবার আর ছাড়বো না বাবা…” সেদিন হয়তো তাদের
অভাব শেষ হয়নি… কষ্টও কমেনি… কিন্তু সেই ছোট্ট পরিবারের ভেতরে একটাই জিনিস ফিরে
এসেছিল— একসাথে থাকার শান্তি। শেষ কথা জীবনে টাকা দরকার, কিন্তু তার থেকেও বেশি
দরকার প্রিয় মানুষদের পাশে থাকা। কারণ একদিন সময় চলে গেলে—অভাব হয়তো পূরণ করা
যায়, কিন্তু হারানো মুহূর্তগুলো আর কখনো ফিরে আসে না।

Comments
Post a Comment